আউট ডোর
বন‍্য প্রানী সংরক্ষণ/নিরাপত্তা আইন ২০১২ এর ফলে বৈধ শৌখিন শিকারের অধিকার সংক্রান্ত জটিলতা

বন‍্য প্রানী সংরক্ষণ/নিরাপত্তা আইন ২০১২ এর ফলে বৈধ শৌখিন শিকারের অধিকার সংক্রান্ত জটিলতা

-ফারাবী জেডি

প্রথমেই বলা ভালো, দেশে যতদিন বৈধ শিকারের অনুমতি ছিল ততদিন লাইসেন্স ফি দিয়ে শুধুমাত্র শিকারের মৌসুমে আমিও শিকার করেছি।

সে নিয়মনীতি মেনে পৃথিবীর প্রায় সমস্ত সভ্য‍, শিক্ষিত, উন্নত দেশগুলোতে শিকারের বৈধতা এখনো বিদ্যমান আছে এবং থাকবে। বাংলাদেশে ২০১২সালে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণার ভিত্তিতে বৈধ শিকার বন্ধ হওয়ার পর যেটা গভীর ভাবে লক্ষ্য করেছি যে, বন্দুকধারী সৌখিন শিকারীরা প্রায় সবাই দেশের আইন অগত্যা মেনে নিয়ে তারা শিকার বন্ধ করে দিয়েছে বটে কিন্তু এই ফাঁকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বিষটোপ/ জাল/ ফাঁদের চোরা শিকারিরা যারা সারাদেশে দিনে শত শত পাখি নির্বিচারে মারছে এবং প্রকাশ্যে/গোপনে বিক্রি করছে। যেটা যেকোনো দেশের বৈধ শিকারের আইনেও সমর্থন করেনা। অথচ ঐসব এলাকার বন্দুকধারী শৌখিন শিকারীরাই এই নির্বিচারে বিষ/জাল/ফাঁদ শিকারীদের সফলভাবে প্রতিনিয়ত বাধা দিয়ে আসছিল পাইকারি হারে প্রানীহত্যা বন্ধ করার জন্য।

বর্তমানে সাধারণ মানুষের কাছে “শিকারি” মানেই অসভ্য নিষ্ঠুর একটা অমানুষ। তাই এখানে প্রকৃত শিকারির বর্ননা দেয়া প্রয়োজন।

প্রতিদিন জাল দিয়ে নদীতে মাছধরা জেলে এবং বছরের নিদৃষ্ট সময়ে নদীতে ছিপ দিয়ে শৌখিন মাছধরা মানুষের মধ্যে যেমন পার্থক্য রয়েছে তেমনি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে বিষটোপ/কারেন্ট জালে পাইকারি পাখি মারা মানুষ ও বন্দুকধারী শিকারির মধ্যে পার্থক্য আছে। কিন্তু যে বন্দুকধারী পাখির প্রজনন মৌসুমসহ সারা বছর নির্বিচারে পাখি মারে, সে আর যাইহোক সে শিকারি নয় , পোচার।

শুনে হয়তো অবাক হবেন যে ফেসবুকের কথিত শহুরে অন্ধআবেগী পাখিপ্রেমির চেয়ে একজন প্রকৃত শিকারির পাখির প্রতি দরদ বেশি। কারণ একজন প্রকৃত শিকারি কখনোই চায় না তার শিকারের পাখি/প্রানি কখনোও বিলুপ্ত হোক।

তাই বন্যপ্রাণী রক্ষা করতে হলে আগে জানতে হবে বন্যপ্রাণীর অভ্যাস ও তার প্রয়োজন কি এবং সেটা একজন প্রকৃত শিকারিই সবচেয়ে ভালো জানেন তাই তাদের বাদ দিয়ে এটা রক্ষা করা সম্ভব নয়।

আবেগের বশে গাছে মাটির হাড়ি ঝুলিয়ে পাখির বাসার বিকল্প অসম্ভব ও হাস্যকর। কারণ সব পাখি এতে অভ্যস্ত নয় । পাখির প্রাকৃতিক বাসার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তাতে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। কিন্তু মাটির হাড়িতে পাখি যদিওবা বাসা বাঁধে এবং সেটা ফুটা করে টাঙ্গালেও ঝোড়ো বাতাসের ঝাঁকুনিতে পাখির ডিম/বাচ্চা হাড়ির দেয়ালে বাড়ি খেয়ে ডিম ভাঙবে কিংবা বাচ্চা আঘাত পাবে। কারণ দেশের প্রায় সব পাখির প্রজননের সময় বর্ষাকাল।

নদী-বিল শুকিয়ে যেমন মাছ রক্ষা করা সম্ভব নয় তেমনি বন-জঙ্গল উজাড় করে বন্যপ্রাণী রক্ষা করাও সম্ভব নয়।

নির্বিচারে গাছকাটার ফলে বরেন্দ্র অঞ্চলের শিমুল গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। যে গাছ শামুকখোলের প্রধান আশ্রয়স্থল ছিল। কারন মোটা শক্ত ডালপালার গাছ ছাড়া এই ভারি পাখি বসবাস করতে পারেনা। তাই আজ তারা ঠাঁই নিয়েছে বিভিন্ন লোকালয়ের আমবাগানে। তাতে নষ্ট হচ্ছে মানুষের অর্থ উপার্জনের বাগান। তেমনি বট-পাঁকুড় গাছের বিলুপ্তিতে হরিয়াল খাবার খুঁজে বরই বাগানে। তাই পেষ্ট কন্ট্রোল জালে আটকে পড়ে জীবন হারায় হরিয়াল সহ অসংখ্য অন্যান্য পাখি। বাঁশঝাড়, তেঁতুল, শেউড়া, বাবলা সহ ঘন ডালপালা সমৃদ্ধ গাছ কাটার ফলে উধাও হচ্ছে বক, নিশিবক, পানকৌড়ি সহ বিভিন্ন পাখির আশ্রয় ও প্রজনন ক্ষেত্র। বিলের পাশের খড়বন, চ্যাচড় বন, কলমি, কচুরিপানা উজাড়ের ফলে ধংস হচ্ছে কালিম, কুট, ডাহুক, পাতি পানমুরগি, কোড়া, গুরগুরি, দলপিপি ইত্যাদি পাখির প্রজনন ও আশ্রয়স্থল।

পাতি সরালীর আবাস্থল বরেন্দ্র অঞ্চলের পদ্ম পুকুরগুলোর, পদ্ম, ঘাসদাম বিলুপ্ত হয়ে এখন মাছ চাষের সুইমিংপুল তাই দেশি পাখি সরালির ঝাঁক দিশেহারা হয়ে জাহাঙ্গীর নগরে হাজিরা দিয়ে “অতিথি পাখি” নামে নতুন পরিচিতি লাভ করেছে।

হয়তো বলবেন, মাংস খাওয়ার খায়েশ হলে বাজারের হাঁস-মুরগি খেলেই হয়। অথচ ভাবছেন না বাজারে চাষের মাছ থাকা স্বত্বেও আপনি কিন্তু নদী,বিল, সামুদ্রিক মাছসহ ইলিশ,চিংড়ি, আইড় বোয়াল বাঘাইড় (বাঘাইড় বাংলাদেশের মৎস্য আইন ধরা/মারা শাস্তিযোগ্য অপরাধ) সহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ প্রতি মুহুর্তে আপনার জন্য মারা হচ্ছে আপনি কিনছেনও উচ্চমুল্যে। হালের ক্রেইজ অনেক DSLR ধারি স্বনামধন্য পাখি প্রেমিককে দেখেছি বিলের ধারে পাখি ছবি তুলে কথিত গবেষণার সময় বিলের দুষ্প্রাপ্য মাছ খেয়ে পিকনিক করতে, যেন পরিবেশের ভারসাম্য শুধু পানির উপরিভাগের পাখিতেই সীমাবদ্ধ, পানির নিচে পরিবেশ রক্ষার কোনো জীব নেই। শিকারীর মারা পাখি দেখে হয়তো ভাবছেন পাখিটার বাসায় ডিম/বাচ্চা আছে অথচ বাজারে ডিমভরা ইলিশ, টেংরা কিনে খেতে কিন্তু কোনো অপরাধবোধ/বিবেক কাজ করেনা।

শিকার হলো ছিপ দিয়ে নদীতে মাছ ধরার মতই একটা শখ/খেলা এর কিছু কঠোর নিয়মকানুন আছে সেগুলো মেনে চললে কখনোই কোন প্রজাতি বিলুপ্ত হবে না বরং বৃদ্ধি পাবে। ফেসবুকের পাখি প্রেমিরা বেশিরভাগই এটা জানেনা যে “অতিথি পাখি” বার্ড ফ্ল , এভিয়ান ইনফ্লয়েঞ্জা সহ প্রায় ৬০ ধরনের অসুখ ছড়ায় লোকালয়ের মানুষ সহ গৃহপালিত পশু-পাখির মধ্যে। যার ফলে আমাদের দেশীয় জাতের হাঁসমুরগী, জালালি কবুতর সহ ছাগল,এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে, আমাদের পরিবেশ রক্ষায় সবচেয়ে বেশি যে পাখিটি সোচ্চার তা হলো “কাক” অথচ বিগত বছরে এই বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী সহ অনেক যায়গায় শত-হাজার কাক মারা গিয়েছে নিউজে অনেকেই হয়তো দেখেছেন।

সে কারণেই উন্নত দেশগুলোতে বছরের নির্দৃষ্ট একটা সময়ে নিদৃষ্ট পরিমান পাখি, হরিণ,মাছ শিকারের লাইসেন্স দেয়া হয় এবং সেই লাইসেন্স ফি’র অর্থ (বছরে প্রায় ১.৬বিলিয়ন ডলার) ব্যয়  করে সেসব প্রানীর আবাসস্থল ও প্রজননের নিরাপত্তা দেয়া হয় ফলে প্রচুর প্রজাতির পাখি সহ অন্যান্য জীব বিলুপ্তি থেকে বর্তমানে রক্ষা পেয়েছে এবং বংশবৃদ্ধি হয়েছে। এর ছোট্ট একটা উদাহরণ হলো আমাদের দেশের প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরার নীতিমালা ও তার প্রয়োগ, যার ফলে ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত হয়েছে ফলে পুরোন দেশের মানুষের ইলিশ খাওয়ার সাধ।

বছরের উপযুক্ত সময়ে, নিদৃষ্ট স্থানে, নিদৃষ্ট প্রজাতির, নিদৃষ্ট পরিমাণ পাখি, হরিন, মাছ শিকারের উচ্চমূল্যে লাইসেন্স প্রদান করে সেই অর্থ ব‍্যয় করে বনায়ন ও পাখির প্রজনন ক্ষেত্রের রক্ষনাবেক্ষন করলেই শুধু জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা সম্ভব। কারণ জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য ফেসবুকে সাধারণ মানুষ যতই পোষ্ট করুক না কেন , তাদের কেউ শামুকখোলের আবাসস্থল তৈরির জন্য ৫/- টাকাও দিবেনা খাস জমিতে ১০টা শিমুলগাছ লাগানোর জন্য ।

বড় শাস্তির আইন করেও যেমন দেশে চুরি-ডাকাতি বন্ধ করা যায়নি তেমনি শুধু আইন করে অবৈধ প্রানী হত্যাও বন্ধ করা যাবেনা। এর জন্য প্রয়োজন সচেতনতা, বৈধ শিকারের কঠোর নীতিমালা ও তার প্রয়োগ।

***আপনার দ্বিমুখী অন্ধবিশ্বাসের আবেগ, কখনোই আমার স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের অন্তরায় হতে পারেনা।

এ সংক্রান্ত আলোচনা এই ভিডিও তে দেখতে পারে

7 thoughts on “বন‍্য প্রানী সংরক্ষণ/নিরাপত্তা আইন ২০১২ এর ফলে বৈধ শৌখিন শিকারের অধিকার সংক্রান্ত জটিলতা

    • Author gravatar

      একদম সঠিক কথাগুলো বলছেন ভাই!!!
      আমি সম্পূর্ণ একমত আপনার কথার সাথে।

    • Author gravatar

      আপনাকে অনেক অনেক ধন্য সঠিক কথা গুলো তুলে ধরবার জন্য,,,আমি নিজেই একজন শিকারি তবে পাখি প্রতি ভালোবাসা একজন পরিবেশবাদী থেকে অনেক অনেক বেশি,যদি প্রমান নিতে চান আসতে পারেন আমার এলাকাই আমার ইউনিয়নে ৯অয়ার্ড,এই ৯টা অয়ার্ডে শুনে দেখতে পারেন আমার শিকার এবং পাখি সংরক্ষন এর ব্যাপারে,এয়ার গানে হড়িয়াল ঘুঘু শিকার করার জন্য সারাদিন একটা বট বা পাকড় গাছে পাশে অপেক্ষা করে বসে আছি সাল ২০১৫,একটা সুন্দর বয়ষ্ক ছেলে হড়িয়াল শিকার করেছি সেই সকাল ৭টাই,বিকাল তিনটা পর্যন্ত বসে থাকবার পরও পাখি এলোনা দেখে চলে যাবো এমন সময় একজন হিন্দু জেলে বললো বাবা কি করছো বসে থেকে যেয়ে দেখো মোড়ের বাড়ীতে বাদুর ধরবার জালে ৩৩টা হড়িয়াল ধরা পড়েছে,ওরা হড়িয়াল খায় না শুধু বাদুর খায়,গেলাম তার বাড়ীতে লোকটা অনেক অনুরোধ করলাম ছেড়ে দেবার জন্য সে নাছড়বান্দা ফ্রিতে ছাড়বেনা,আমার কাছে হয়তো ১০০ বা ১৫০ টাকা ছিলো,সে বললো প্রতিপিস ১০০ টাকা করে দিলে সে সব গুলো আমই দিয়ে দেবে,বাড়ী থেকে প্রাই ৫৬ কিলোমিটার দুরে ঐ স্পট টা,নিজ এলাকার দুজন বিকাশ দোকানি ফোন করে টাকা নিয়ে পাখি গুলো কিনে নিলাম,,যে খাচাই ছিলো সেটাতো পাখি গুলো খুব কষ্ট করে বেচে ছিলো কারন খাচাটা সাইজে খুব ছোট,খাচা সহ পাখি গুলো নিয়ে যে পাকড় গাছে এমবুশ করে বসে ছিলাম সেখানে পাখি গুলো কে ছেড়ে দিলাম,ভালো লাগার অনুভতিতে চোখে পানি চলে এসেছিলো,সারাদিন আমি শিকারি অপেক্ষ করে শিকার পেলাম একটা,দুবছর পরে গিয়ে দেখলাম যে ঐ পাকড় গাছটা মন্দির এর উন্ননে বিক্রি করে দিয়েছে,এর পরও বলবেন আমরা শিকারিরা পরিবেশ ধ্বংসকারী?গত শীতে আমার এলাকাই এক লোক জাল দিয়ে বাচ্চা সহ ১৭টা সরালি ধরেছিলো,লোকটাকে বুঝিয়ে বললাম যে বাচ্চা গুলো একটাও বাচবেনা আর মা পাখিটাও খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে মারা যাবে,উনি আমাই অবাক করে দিয়ে বললো এত কিছু কেনো বলছো তুমি চাইলেই আমি পাখি গুলো আবার বিলে ছেড়ে আসবো,লোক ভ্যান চালক তার ভ্যানে করে পাখি গুলো নিয়ে যে মাঠ থেকে ধরেছিলো সেখানেই ছেড়ে এসেছিলাম যেখানে ২মাস চেষ্টা করেও একটা সরালি শিকার করা যাইনা,উনাকে বললাম কি করলে খুশি হবেন বললো পাচটা বক মেরে দিও শীতের শেষে,এর পরও বলবেন আমরা শিকারিরা শাস্তি পাবার যোগ্য ?আমার বাড়ীর সামনে প্রাই ২৪ বিঘা জায়গা জুড়ে বিশাল বাশ বাগান,নিজের পকেটের টাকা দিয়ে অন্য এলাকা থেকে ফাদে শিকার করে এমন লোক থেকে ১৩টা ডাহুক কিনে এনে ঐ বাগানে ছেড়েছিলাম দুই বছর আগেে,এখন প্রাই ৫০ টার মত ডাহুক ঐ জংগলে পরিবার নিয়ে বসতি করেছে,তার পরও আমারা শিকারিরা খারাপ,নিজের জমিতে ২০০৭ সালে একটা বট এর চারাা লাগিয়েছিলাম,সেটা এখন প্রাই একশতক জায়গা জুড়ে গিয়েছে,জমিটা মেন রাস্তার সাথেই,এক শতক জায়গার দাম দেড় লক্ষ টাকা,কৈ কোনো পরিবেশবাদীদের তো দেখলাম না যে নিজের মুল্যবাান জমিতে পাখির জন্য গাছ লাগিয়েছে,গাছ,উজাড় করে দিচ্ছেন নানান প্রয়োজেন,জমিতে বীজের সাথে দিচ্ছেন বীষ আর পাখি কমে যাবার জন্য সমস্ত দোষ দিচ্ছেন শিকারিদের,,সময় উপযোগি আইন করুন মানুষ কে তাদের স্বধীনতা ফিরিয়ে দেন,কোরআন থেকে জেনে আইন তৈরি করুন দেখবেন সমাজেে শান্তি চলে আসবে

      • Author gravatar

        Thank you for sharing your experience.

      • Author gravatar

        হ্যাটস অফ রনি ভাই….
        আবেগ বুকে নিয়ে চিরকাল গুমরে মোরবনা আর।
        দেশের একটা ক্রান্তিলগ্নে আইনগুলো হয়েছে যখন পুরোনো শিকারীরা বার্ধক্যে অবনত ছিলেন এবং নবিনরা ছিলেন দিশাহারা। এখন সময় এসেছে প্রকৃত সত্য নিয়ে বাস্তবকে প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নামবার।

    • Author gravatar

      বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন চালু হয়েছে ২০১২ সালে। তারপর থেকে এই গত সাত আট বছরে কি কতৃপক্ষ সেই আইন দিয়ে বন্য পশুপাখি নিধন দমন করতে পেরেছেন ?
      পারেননি….
      যেটা পেরেছেন সেটা হলো জনসচেতনতা বা ম্যাস মোটিভেশান হিসেবে দেশে বর্তমানে একটি বিশেষ পরিবেশবাদী সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছেন যারা খাদ্যের নিমিত্তে পশুপাখি হত্যা জিনিসটাকে চরম অমানবিক, চরম পৈশাচিক এবং চরম অধর্ম বিধায় চরম ঘৃনীত হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। কিন্তু এটা ভেবে না হেসে পারিনা যে তারা কোন যৌক্তিকতায় এমন মত প্রকাশ করতে পারেন…? বৌদ্ধ ধর্মে জীব হত্যা মহাপাপ শুনেছি। কিন্তু বৌদ্ধ ধর্মের দেশ মায়ানমারে মানুষ হত্যার অপূর্ব নজিরের কথা তারা মনেহয় শোনেননি। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ চীনে বন্যপ্রাণী ভোগ্য পন্য হিসেবে অবাধে বিক্রির তথ্যটাও মনে হয় তারা জানেননা। তা থেকে করোনা সৃষ্টির সম্ভাভ্যতার পরেও যে চীন সরকার সে ব্যাপারে শিথিল তাও তারা জানেননা। তারা জানেন না পৃথিবীর ৯৮% খৃষ্টান ধর্ম প্রধান দেশে লাইসেন্সের মাধ্যমে শিকারের বৈধতার কথা। তারা জানেননা হিন্দু ধর্মে খ্যতৃয় এবং অন্য প্রায় সকল নিম্ন বর্নের জন্য খাদ্য হিসেবে প্রাণী হত্যার বৈধতার কথা। জানেননা কোরআনে শিকারের বৈধতা সম্পর্কিত স্পষ্ট আয়াতগুলোর কথা। এগুলো তারা জানেননা বলেই মনেহয় বাংলাদেশে এই নিও মানবিক ধর্মের প্রবর্তন হয়েছে যেটা এদেশের মানুষের মধ্যে একটা আবেগীক বিভাজন সৃষ্টি করেছে। সৃষ্টি করেছে পারষ্পরিক প্রতিহিংসার।
      এক যায়গায় বসে একজন ফাঁদ দিয়ে বা জাল দিয়ে ডজন ডজন পাখি ধরে। বিষটোপে বা কৃষকের বীজের বিষে মরে শয়ে শয়ে। দেশের কোন আইন, কোন শাস্তির ভয়ই প্রত্যন্ত এলাকা গুলোতে এসব অপরাধ নির্মুল করতে কোনদিন পারে নি পারবেও না। কোন নিও মতবাদ ওসব যায়গায় কাজে আসেনি, আসবেও না।
      মাঝখানে ১০/১১/২০২০ এর পুরস্কার আইন হয়তো নিও মতবাদীদের খুশির কারন হবে, তবে সামগ্রীকভাবে দেশের মানুষদের মাঝে শুধু প্রতিহিংসা নয় বরং সহিংসতার জন্ম দেবে। একজন মানুষকে অপরাধের জন্য ফাঁসিয়ে বা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য নিজেকে নিজ বিবেকে নিষ্কলুষ হতে হয়। একজন বিবেকবান মানুষ কখনোই কাওকে গোপনে ধরিয়ে দিয়ে ধন্য বোধ করবেননা। বড়জোর সামনা সামনি একটু শাষিয়ে বুঝিয়ে ছেড়ে দেবেন। কিন্তু চোরা কি ধর্মের কথা শুনবে? বড়জোর এলাকা বদল করবে। ঘুষ, দুর্নীতি, পাপাচার আর মিথ্যাচারের এই দেশে ধোয়া তুলশীপাতা কয়জন..?? আজকে এই আইন দ্বারা হয়তো এমন একজন পাখি শিকারীর জেল জরিমানা হবে পারে যে অন্যান্ন রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিক সকল ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল। আর তাকে ধরিয়ে দিয়ে কোন নেশাখোর হয়তো পাবে দুদিনের মাদকের যোগান। কেও পাবে প্রতিষোধ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।
      পক্ষান্তরে লাইসেন্সড হান্টিং পৃথিবীর প্রতিটি সভ্য দেশে নাগরিকদের জৌলুশ। সুনিদৃষ্ট আইন ও নীতিমালা দ্বারা সেসব দেশে বিভিন্ন প্রজাতীর পশু-পাখি সারা বছর ধরে পোষা হয় এবং নির্ধারি সীমিত সময়ে শিকার করা হয়। উন্নত জাতীর মানুষ মানবিক আইন তৈরি করে মানুষের মানবিক অধিকার নিশ্চিত করে। আর জরিমানা শাস্তি তাদের জন্য যারা সেই আইন অমান্যকারী অজাত অপরাধী। পোচার এবং হান্টার সম্পূর্ণ বিপরিত দুই গোষ্ঠী। উন্নত দেশগুলো হান্টারদের সহায়তায় পোচার দমন করা হয়। আর বাংলাদেশে তথাকথিত পরিবেশবাদীদের দেয়া হয়ে হয়েছে সেই দায়িত্ব হান্টারদেরকে পোচারের কাতারে ফেলে। আবার একবার হাসি নিয়তির সাথে।
      আসলেই জাতে উঠতে আমাদের অনেক বাকি….

    • Author gravatar

      Assalamualaikum..Vai shikar krchi choto bela thk.dadur thk baba,babar thk amra 4 vai.family te keu nesha to dure thak sigaret ta porjonto khay naa.amder free time manei baap beta shikare.eita kii emon kharap kaj ? Amra desh err kon shompod err kii poriman khoti shadhon krchi j amader eii halal shokh ta ja kina amder baba cheler melameshar akmatro maddhom setak oboidho kre dicche ?poribesh baadi pakhi premik raa gach e jokhn matir kolosh badhe tokhni to bujha jaay j pakhir shathe tader kii nibir shomporko.oii poribesh baadi derr challenge krte chai ami shikari 2 jonnei 1 ta kre bok pakhir baccha palon krb.dekhi kar ta bache arr kar ta more.
      Amr desh err shorkar k benito vabe blte chai amr babar boidho fire arms err lisence er upore boro kre kno likhechen j ” attorokkha, shikar ,o prodorshonir nimitte shojjito kra hoilo” ? Amy kno amr babar shathe lukay shikar krte hobe ? Shikar ato omanobik kaj howr poreo kno amr familyr 3 ta generation kokhnoi kono kono onnay kaj kreni ?

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares
Don`t copy text!