আত্ম উন্নয়ন
আনআর্মড কমব্যাট বা খালিহাতে আত্মরক্ষা শিখুন

আনআর্মড কমব্যাট বা খালিহাতে আত্মরক্ষা শিখুন

(আমার এই লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে টেকটিউনস প্রকাশিত হয়েছে। ওগুলোই আবার রিপোস্ট করলাম এখানে। ইউটিউবে হাজার হাজার খালিহাতে ‍আত্মরক্ষার ভিডিও দেখা যায়। সেগুলো বেশ কাজের। আমি এখানে বেসিক বিষয় গুলো আলোচনা করেছি।) বিদ্যুৎ মিত্রে’র(কাজী আনোয়ার হোসেন)র “খালিহাতে আত্মরক্ষা” বইটি দিয়ে আমার সেলফ ডিফেন্স শেখার হাতেখড়ি।আমি কোন ব্ল্যাক বেল্টধারী নই 😥 । কিন্তু মার্শাল আর্ট নিয়ে অনেক পড়েছি, প্র্যাকটিস করেছি যা সত্যিকার মারামারিতে কাজেও লেগেছে 😆 ।

শারিরীক সক্ষমতা অর্জন:

জাঁ ক্লদ ভ্যানডাম বা আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার হতে বলছিনা। কিন্তু কিছু ওয়ার্ম আপ এক্সারসাইজ করাটা জরুরী। নইলে

হঠাৎ কোন পেশীতে টান পড়তে পারে- তাছাড়া স্ট্রেচিং করা থাকলে আপনার উঁচুতে লাথি মারাও সহজ হয়। শরীর

ফ্লেক্সিবল হলে দ্রুততাও অর্জন করা যায়।  ব্যায়াম করলে কি কি উপকার হয় তা তো সবার জানা। বডি বিল্ডিং করতে চাইলে এই লেখা পড়তে এখানে ক্লিক করুন। আর বয়স কে একদম পাত্তা দিবেননা! মনটাই আসল। কোন স্ট্রেচগুলো করবেন তার ছবি নিচে দিলাম। প্রত্যেকটি করতেই হবে তা না। যেটা কোনভাবেই পারছেননা সেটা বাদ দিতে পারেন। ভারী খাবার খাওয়ার দুই ঘন্টা পর প্র্যাকটিস গুলো করবেন। প্রতিটি স্ট্রেচ ২ সেট ৬ বার করে করতে হবে। দিন দিন আপনার শরীরের জয়েন্টগুলো ফ্লেক্সিবল হয়ে যাবে। যারা আগে থেকেই বুকডন, সিট আপ, ক্রান্চস দিতে পারেন তারা স্ট্রেচ গুলো করে তারপর সেগুলো করবেন।

স্ট্রেচিং কি করে করতে হয় তার বিস্তারিত বর্ণনায় গেলাম না। ছবি দেখেই সব বুঝতে পারবেন। বেশির ভাগ ছবি গুলো ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত। কিছু কিছু অবশ্য আমার ৭ বছরের মেয়ে’র ছবি। মার্শাল আর্টে তার খুব আগ্রহ।

১.

২. 

৩.

৪.

৫.

৬.

ক                                                                                   খ                                   গ

৭.

ব্যাস, এতেই আপাতত: চলবে।

পাঞ্চিং ব্যাগ তৈরি

এবার এক কাজ করুন। বাড়ীতেই একটি  পাঞ্চিং ব্যাগ বানান। বানানো খুব সহজ। পুরনো জিনসের প্যান্ট কোমরের অংশ ‍টুকু বাদ দিয়ে কেটে ফেলুন (ছবিতে দেওয়া কালো দাগ বরারব কাটতে হবে)। এবার একটির পা আরেকটা পায়ের মধ্যে ঢুকান। দুটো একসাথে করলে ব্যাগটা প্রচুর শক্ত হবে। এবার ভিতর দিকে একটা দড়ি দিয়ে গিঠ বেঁধে ফেলুন। এ’জন্য ব্যাগটাকে উল্টে নিবেন।

ভেতরে গিট্টু লাগানোর পর উপরের কিছু অংশ বাকি রেখে পরিষ্কার শুকনো বালি দিয়ে ভর্তি করুন (ছবি দেখুন)। এবার একটা শক্ত দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দিন। একটু ফাঁকা জায়গা ঝুলাবেন। নইলে আপনার লাথিতে টিভি ভেংগে যেতে পারে 😀 । এখন ব্যাগটিকে প্রয়োজন মত পিটাতে পারবেন। আপনার হাত পা ও শক্ত হবে সেই সাথে প্রচন্ড জোরে মারার ক্ষমতাও অর্জন করবেন। প্রথম প্রথম খুব জোরে মারতে যাবেন না। আস্তে আস্তে শুরু করুন।

শরীরের কোন অংশ ব্যবহার করে আঘাত করতে হয়?

আমরা ছোটবেলা থেকেই ঘুষোঘুষি করে থাকি ( বিশেষ করে    এখনকার বাচ্চারা তো ভয়ানক ফাইটার!! তারা সারাদিন রেসলিং দেখে আর সুযোগ পেলেই তা  কাজে লাগানোর চেষ্টা করে । কিন্তু ঘুষি পাকানোর একটা নিয়ম আছে। ঠিকমত ঘুষি মারতে না পারলে আপনি নিজেই ব্যথা পেতে পারেন। এমনকি হাত ঠিক মত সোজা না থাকলে কব্জি ভেঙ্গে যেতে পারে! নিচের ছবি গুলো দেখুন:

. আঙ্গুল গুলো পরস্পর দৃঢ় ভাবে লেগে থাকবে।

বি. চার আঙ্গুল মুঠি পাকান।

সি. বৃদ্ধাঙ্গুল শক্ত ভাবে কনিষ্ঠা ও মধ্যমার নিচে রাখুন।

ডি. আপনার মুষ্ঠিবদ্ধ হাত একদম ফোর আর্মস এর সোজা থাকবে। একটুও ডানে-বামে বা উপর-নিচ হয়ে থাকবেনা।

. তায়কোয়ান্দোর নিয়ম অনুযায়ী কনিষ্ঠা ও মধ্যমার উচু হয়ে থাকা অংশ দিয়ে আঘাত করতে হবে। এই দুই হাড়

সবচেয়ে শক্ত হয়। কোন জায়গাটা বুঝেছেন- জেট লি’র তীর চিহ্নিত ছবিটি দেখুন। সিনেমাটা দারুন। পারলে দেখবেন।

যেভাবে মুঠি/ঘুষি পাকানোর নিয়ম বলা হলো সেভাবে করে এখন পাঞ্চিং ব্যাগটিকে ধীরে ধীরে ঘুষি মারতে থাকুন। ব্যাপারটা প্রথমে বুঝে নিন। তারপর গতি বাড়ান। প্রথম প্রথম হাত ব্যথা করবে, পরে হাত শক্ত হয়ে গেলে আর ব্যথা লাগবেনা। ব্যথার জন্যে কোন পেইনকিলার খাবেননা। অনেকবার বলেছি, আবার বলছি-ঘুষি মারার মূহূর্তে আপনার কব্জি যেন কোন দিকে বেঁকে না যায়। এখানে বলা রাখা ভাল, প্র্যাকটিসের আগে অবশ্যই প্রথম পর্বে দেখানো স্ট্রেচ গুলো করবেন।

হাতের কিনারা দিয়ে প্রচন্ড জোরে মারা যায়। কিভাবে বা কোথায় মারতে হয় সেটা পরে দেখব। এখন হাতের ভঙ্গিটা কেমন হবে? প্রথমে নিচের ১নং ছবির মত হাতের আঙ্গুল গুলো পরস্পর দৃঢ়ভাবে লেগে থাকবে। আঙ্গুল গুলো বাঁকা করতে পারেন-অথবা সোজা রাখলেও ক্ষতি নেই। বৃদ্ধাঙ্গলটি ভাঁজ করে ভেতর দিকে মুড়ে রাখবেন। ২নং ছবিতে পরিষ্কার বুঝবেন। আঘাতের সময় শুধু বক্সের মধ্যের মাংসল অংশ টুকু ব্যবহার করে আঘাত করতে হবে। এটাও পাঞ্চিং ব্যাগে মেরে মেরে হাত পাকিয়ে ফেলুন।

 

মধ্যমা দিয়ে  দিয়ে আঘাত করতে পারেন। নিয়ম অনুযায়ী মুঠি/ঘুষি পাকান। এবার মধ্যমা ছবির মত বের করে দিন।

এক্ষেত্রে  মধ্যমা খুব শক্ত করে রাখবেন না, একটু ফ্লেক্সিবল হলে ভাল। এই মধ্যমা দিয়ে আঘাত করবেন খুব নরম ও দূর্বল জায়গায়। যেহেতু ফ্লেক্সিবল- সেহেতু জোরে আঘাত হবেনা। অতিরিক্ত সেনসেটিভ জায়গায় জোরে মারলে মানুষ মূহূর্তের মধ্যে মারা যেতে পারে। কোথায় কত দূর্বলতা, কোথায় প্রান খুলে মারতে হবে-মৃত্যু ভয় থাকবেনা; তা ধীরে ধীরে জানবেন।


কনুই দিয়ে্ও মারতে পারেন। সামনে কনুই ঘুরিয়ে অথবা পেছনেও মারা যায়।

এবার শিখবো পায়ের কোন অংশ দিয়ে আঘাত করতে হয়। ছবি অনুযায়ী বর্ননা করছি।

. পায়ের আঙ্গুলের নীচের মাংসল জায়গা।

বি.  পায়ের উপরের অংশ

সি.  গোড়ালী বা হীল

ডি. পায়ের বাইরের ধারাল অংশ (দু’পাশেই)

. বুড়ো আঙ্গুলের নীচের অংশ (প্রায় এ. এর মতই)

এফ. আঙ্গুল বাদে পুরো পায়ের তলা।

যখন পায়ের যে অংশদিয়ে মারবেন, মারার ভঙ্গিটা যেন ছবির মত হয়। নইলে নিজেই ব্যথা পাবেন। পায়ে একটা জুতা থাকলে তো আরও ভাল। যত শক্ত জুতা, তত ব্যথার পরিমাণ বেশি। তবে খালি পায়ের মারও প্রচন্ড ধ্বংসাত্মক 😆 !! হাতের চেয়ে ৪ গুন বেশি!! তবে লাফ ঝাঁপ দিয়ে মারতে চাইলে কেডস ভাল।

ছবিতে যেভাবে দেখানো হয়েছে এভাবে পাঞ্চিং ব্যাগে লাথি প্র্যাকটিস করুন। হাতের কাজ, পায়ের কাজ ইত্যাদি স্টেপ বাই স্টেপ দেওয়া হবে।

মানুষের শরীরের দূর্বল অংশ:

যারা খুব উঁচু মানের মার্শাল আর্ট ডিগ্রী চান তাঁদের উচিত হবে কোন ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হওয়া। কিন্তুআক্রান্ত হলে যেন বোকার মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মার না খান সেজন্যেই আমার এই প্রচেষ্টা। সবচেয়ে যেটা আপনার বেশি দরকার তা হচ্ছে সাহস! একজন ভীতু যতই বডি বিল্ডার হোক বা মারামারিতে এক্সপার্ট হোক- সাহস না থাকলে তার কোন দামই নাই। আমি চাই আপনি বুদ্ধিমান ও সাহসী হোন। পেটে পিস্তল বা ছুরি ধরে আছে। এমন অবস্থায় অতি সাহসীদের প্রায় প্রান হারাতে হয়। ছিনতাইকারী যদি মানিব্যাগে সন্তুষ্ট হয়ে চলে যায়- যাক না। নিজের প্রানের চেয়ে টাকার মূল্য কত টুকু? কিন্তু পরিস্থিতি এমন যে মূল উদ্দেশ্য আপনাকে খুন করা বা ধোলাই দেওয়া সেক্ষেত্রে আপনার সাহসী প্রতিবাদ অর্থাৎ লাথি, ঘুষি তাদের অবশ্যই চমকে দেবে। সাধারনত: দেখা যায়, একজনকে সাধারনত: কয়েকজন মিলে মারতে আসে। সেক্ষেত্রে তারা যদি অস্ত্রধারী হয় তাহলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করা যেতে পারে। যদি না সে সুযোগ না থাকে তাহলে লড়াই এ নেমে পড়ুন। তবে একসাথে বেশ কয়েকজনকে কাবু করতে হলে আপনাকে মার্শাল আর্টে খুব দক্ষ হতে হবে। সেজন্য প্রয়োজন একনিষ্ঠভাবে লেগে থাকা আর অসীম সাহস। যদি বুঝেন মারামারি করতেই হবে তাহলে ওদের আগে আপনিই আঘাত করুন। যারা মাস্তানি করে তাদের বেশির ভাগই গাঁজা ফেন্সিডিল খেয়ে শরীরের বারোটা বাজিয়ে রাখে। কিন্তু গডফাদার, কথার জোর আর খানিকটা গাঁজার নেশায় তারা নিজেদের অনেক কিছু ভাবে। আসলে আপনার একটা প্রচন্ড ঘুষি বা লাথিতেই তারা কুপোকাত হতে পারে।

কিন্তু ঐ যে বললাম শক্তি থাকলেও সাহস থাকেনা। সাহস বৃদ্ধির জন্য মনে মনে সবসময় বলুন, আমি সাহসী, আমি নির্ভীক। নামাজ পড়লে আপনার শারীরিক ও আত্মিক উন্নতি হয়। সেজদারত অবস্থায় আল্লাহ্ সুবহান্নাল্লাহ তায়ালাকে বলুন, হে আল্লাহ্! আপনি আমার সাহস বাড়িয়ে দিন।

ইনশাল্লাহ্ এতে আপনার সাহস বাড়বে। পরীক্ষিত ব্যাপার!!

এখন দেখবো মানুষের কোন অংশগুলোতে আঘাত করলে তার বারোটা বাজানো যাবে। এখানে আপনি কিন্তু বহু বছরের পরীক্ষিত পদ্ধতি শিখছেন। বন্ধু বান্ধবকে হঠাৎ মেরে এর ক্ষমতা পরীক্ষা করতে যাবেননা। বন্ধুকে নিয়ে প্র্যাকটিস করবেন কিন্তু একে অন্যকে প্রচন্ড জোরে মারবেননা।

উপরের ছবিতে দেখছেন পায়ের কোন জায়গা গুলোতে মারতে হয়। পায়ে মারলে মরে যাবার ঝুঁকি নেই অথচ আত্নরক্ষার জন্য এই সব জায়গায় মেরে আপনি পালানোর যথেষ্ঠ সময় পাবেন। প্রচন্ড জোরে মারার ক্ষমতা থাকলেই হবে।

শরীরের গোপনীয় স্থান সম্পর্কে এখানে লেখা হয়তো শোভন নয়; কিন্তু জানার খাতিরে লিখতে হবে। একটা কথা বলা হয়নি- আমরা বেশির ভাগ লোকই জিন্স পরতে পছন্দ করি। কিন্তু টাইট জিন্স পরে লাথি মারা খুব অসুবিধা।  যে প্যান্টে পা সহজেই এদিক ওদিক নাড়াতে পারেন মারামারির জন্য সেটা পরাই ভাল।

উরুর ভেতরের অংশে খুব জোরে মারা যায়। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে ভুল করে আরেকটু উপরে জোরে মেরে বসলে জেলে যেতে হবে। অন্ডকোষে খুব সাবধানে মারবেন। কোন রেপিস্টকে থামানোর জন্য মেয়েরা এই কৌশল কাজে লাগাতে পারেন। আমি ফাইভ স্টার (টেনিস বল) বলে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে বেশ কয়েকবার আঘাত পেয়েছি। তাতে বুঝেছি এখানকার আঘাত কি অতুলনীয় (!) ব্যথার সৃষ্টি করে  🙄 ।

যখনই উইক পয়েন্টগুলো ছবিতে দেখবেন তখনই নিজে টিপে টিপে ঠিক কোন জায়গায় বেশি ব্যথা লাগে তা বের করে নেবেন (টেসটিকল বাদে 😳 !!)। কাল আবার নতুন উইক পয়েন্টগুলো জানব।

মারামারির সময় কিভাবে দাঁড়ালে সহজে পড়ে যাবেননা তা জানা দরকার। এটাকে আমরা বলব ফাইটিং স্ট্যান্স। এটা আগের অধ্যায় গুলোতে দেওয়া যেত। যাক, নিচে দেখুন-

. কাঁধ যতখানি চওড়া তত খানি পা ফাঁক করে দাঁড়ান।

বি. এবার দু’পা ৪৫ কোণে ঘুরুন।

সি. এবার এক পা পেছনে এনে সি. ডি. তে দেখানো ছবির মত রাখুন। কাঁধ যতখানি চওড়া তার চেয়ে একটু বেশি পা ফাঁকা রাখুন। দুই পা হাঁটুর কাছে সামান্য ভাঁজ হয়ে থাকবে। পিছনে পায়ের ভর থাকবে পায়ের সামনের অংশে (গোড়ালীর উপর নয়) ।

খুব ঝামেলা মনেহচ্ছে! আসলে তা নয়। আসলে ফাইনালী দাঁড়ানোর অবস্থাটা হবে- ই. নম্বর ছবির মত। এভাবে দাঁড়ালে সহজে পড়বেননা। আপনি টার্গেট হিসেবেও ছোট হয়ে যাবেন। ই. নম্বর ছবিতে বাম দিকের জনকে ফলো করুন। ডান দিকের জন ভুল ভাবে দাঁড়িয়েছেন। কেন তা পরে জানবেন। আজ এখানেই সমাপ্ত।

 

ব্লকিং

“Blocking is the heart of your defense.”  সুতরাং এর গুরুত্ব বুঝতেই পারছেন। দুই হাত ব্যবহার করে শরীরের তিন ভাগ এলাকাকে রক্ষা করা যায়।  প্রথম ভাগ: মাথা ও মুখ, দ্বিতীয় ভাগ: বুক ও পেট, তৃতীয় ভাগ: তলপেট ও অন্ডকোষ। যেকোন আঘাত ঠেকাতে হাতের এই অংশগুলো ব্যবহার করুন (সফট ব্লক বলেও একটা জিনিষ আছে; তবে এখানে এত বিস্তারিত দিচ্ছিনা।)

নিচের ছবিগুলো লক্ষ্য করুন। এখানে শরীরের প্রথম ভাগ রক্ষার ব্যাপারে দেখানো হয়েছে। একহাত যখন মাথার উপর তুলে ব্লক করবেন, অন্যহাত তখন আপনার কোমরের কাছে থাকবে। হাতের অবস্থান ভালমত দেখে প্র্যাকটিস করুন। এগুলো প্রায় সবই ইউ টিউবে পাবেন। যেহেতু আমাদের দেশের নেট স্পিড কম সেহেতু সেগুলোর লিংক দিচ্ছিনা। আপনার যেসব বুঝতে অসুবিধা সেগুলো ইউটিউবে ভিডিও দেখে নিলে অনেক সুবিধে হবে।

এবার দেখা যাক শরীরের মধ্যভাগের জন্য কোন ব্লক করতে হয়? এই ব্লকে বুক, পেট, সোলার প্লেক্সাসের মার রুখতে পারবেন।

শরীরের নিম্ন ভাগের ব্লকিং এর জন্য নিচে দেখুন:

কোন ধরনের ব্লক  শরীরের কোন অংশ ব্লকিং এর জন্য প্রযোজ্য তা ছবির শেডেড অংশগুলো দেখলে বুঝবেন।

ব্লকিংগুলো যদি পরিষ্কার না বুঝে থাকেন তাহলে তীর চিহ্নিত ছবি গুলো দেখে প্র্যাকটিস করুন। সহজ হয়ে যাবে।

 অনেক ধরনের ব্লকিং আছে। সেলফ ডিফেন্স এর জন্য অত গভীরে না গেলেও চলবে। তবে শুধু পড়লেই হবেনা। ছবি দেখে দেখে প্র্যাকটিস করতে হবে। প্রচুর প্র্যাকটিস করলেই সত্যিকার মারামারিতে কাজে দেবে। মারামারির সময় কি এতকিছু মনে থাকবে? থাকবেনা। তাই অনেক প্র্যাকটিস করলে শরীর নিজে থেকে রেসপন্স করবে। অত চিন্তা করা লাগবেনা।

আপনার বোঝার সুবিধার্থে আরও ছবি দিলাম। বন্ধুর সাথে প্র্যাকটিস করুন ধীরে ধীরে। শুধু ব্লক করলেই প্রতিপক্ষের হাত ধীরে ধীরে অবশ হয়ে যায়-ব্যথায়। বিশ্বাস না হয়ে প্র্যাকটিস করেই দেখুন।

 

এবার একটু মারামারি!! 😆

ছবিতে দেখানো ডান দিকের লোকটি আপনি। এ মহিলার দিকে একটু দৃষ্টি নিক্ষেপ করায় আপনাকে পিটুনি দিতে এসেছে 🙂 সন্দেহ নাই, অবলা নারী ভেবে বিরাট ভুল করেছেন 🙂

 

উপরের ছবি দেখুন। মাথা লক্ষ্য করে সে ডান হাতে ঘুষি চালিয়েছে। আপনি বামহাতে ব্লক করলেন। এবার একই ভাবে বাম হাতে মারলো। এবারও আপনি ব্লক করলেন। এবার  সে আপনার চোখ লক্ষ্য ঘুষি মারল। আর সহ্য করা যায়না!! বাম হাতে তার ঘুষি ব্লক করে ডান হাতে সোলার প্লেক্সাসে মারুন। এতেই হবে। কোন মহিলা যদি এই পোস্ট পড়েন তিনি নিশ্চয় আমার উপর রাগ করছেন। ঠিক আছে। নিচে দেখুন।

এবার বামের লোক ভিলেন। সে এসেই আপনার পেট লক্ষ্য করে লাথি চালিয়েছে। একপাশে সরে গিয়ে ডানহাতে ব্লক করুন। নিচের দিকে যেভাবে ব্লক করতে হয়। এবার তার গলায় মধ্যমা বের করে খোঁচা দিন। সম্ভবত: ঠিকমত লাগেনি :mrgreen: ।

আপনার মাথা লক্ষ্য করে এবার রাউন্ডহাউজ কিক চালালো শয়তান! ডানহাতে ব্লক করে সোলার প্লেক্সাসে মারুন কনুই এর গুঁতো। আশা করা যায় এতে শয়তান দোযখে ফিরে যাবে।

 

সাধারনত: যেসব পরিস্থিতিতে রাস্তা ঘাটে হয়; সেসব নিয়ে আলোচনা করবো।

১ম সিনারিও:

প্রতিপক্ষ (কালো গেঞ্জি)এসে আপনার (লাল গেন্জি) একটি হাত দু’হাতে চেপে ধরেছে। কব্জি চেপে ধরে সাধারনত:। যে হাতটি ধরেছে সেটি মুঠি পাকান। এবার আপনার মুঠো পাকানো হাতটিকে মুক্ত হাত দিয়ে ধরুন এবং নিচের দিকে চাপ দিন। প্রতিপক্ষ এ’ক্ষেত্রে উপরের দিকে ধরে রাখতে চাইবে। এই শক্তি আর আপনার শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উপর দিকে ঝাঁকুনি দিয়ে হাতটি ছাড়িয়ে নিন। সে আর কিছুতেই আপনার হাত ধরে রাখতে পারবেনা। খেয়াল করুন হাত ছাড়ানোর সাথে সাথে কনুই তৈরী হয়ে গেছে গুঁতো মারার জন্য!! এখন আপনার পছন্দ মত কনুই বা কোপ মারতে পারেন।

২য় সিনারিও:

এরকম প্রায় হয় যে, কলার ধরে অন্য হাতে ঘুষি বা চড় মারতে আসে প্রতিপক্ষ। যে হাতে কলার ধরেছে সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে বি. নং ছবির মত ঘুষি মারতে উদ্যত হাতটিকে ঠেকান। এবার সি. ছবির মত যে হাতে ব্লক করলেন সেটি হাত ঘড়ির কাঁটার দিকে প্রতিপক্ষের হাতসহ নিচে নামান- তাহলে সে তার খানিকটা ভারসাম্য হারাবে। এবার আপনার বাম পা একটু এগিয়ে যেহাতে সে আপনার কলার ধরেছিল সেটাকেও ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরিয়ে আপনার কনুই এর ভাঁজে ওর বাম হাতটা আটকে দিন। ডি. নং ছবিতে দেখুন- হাতটা কিভাবে আপনার শরীরের সাথে লেগে হাতের ভাঁজে লক্ড হয়ে গেছে।  লক্ষ্য রাখুন, প্রতিপক্ষের হাতটা যেন সোজা থাকে। এমন অবস্থায় আপনি আপনার বামহাত যত উপরে ওঠাবেন তার ব্যথার পরিমাণ তত বাড়বে । এখন ডানহাত ব্যবহার করে ওকে চিৎপটাং করে দিতে পারেন। কোথায় মারলে কি হবে তাতো আগেই বলা হয়েছে।

দুটো ঘটনাই বন্ধুর সাথে প্র্যাকটিস করে বুঝে নিতে হবে। একজন পার্টনার ছাড়া কিন্তু শিখতে পারবেননা।

ভাল থাকুন। পরবর্তী পোস্টে এর চেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে কি করতে হবে তা জানবেন। সাথেই থাকবেন আশাকরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares
Don`t copy text!