সেক্স
আপনার যৌনস্বাস্থ্য রিসেট করুন

আপনার যৌনস্বাস্থ্য রিসেট করুন

আপনি কি চিন্তিত?

যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে আমাদের জানার আগ্রহ আছে। কিন্তু লজ্জায় আমরা সবাইকে সব কিছু বলতে পারিনা। এটা টিনএজারদের মধ্যে দেখা যায় বেশি। যেটা জানে তার বেশির ভাগই ভুল জানে। যার জন্য বয়:সন্ধিকালের একটা লম্বা সময় কেটে যায় নানান ভয়ভীতি ও দু:শ্চিন্তায়। আশার কথা এখন টেক্সটবই গুলোতে যৌনস্বাস্থ্য সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। যার ফলে অনেকের উপকার হচ্ছে। আমাদের বাচ্চাদের তো আমরা সরাসরি এসব সম্পর্কে বলতে পারিনা। সেজন্য আমার এই ব্লগ লেখা। ভবিষ্যতের প্রজন্ম যাতে এই লেখা পড়ে যৌনতা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে পারে। যেমনটি আমরা জেনেছিলাম শ্রদ্ধেয় কাজী আনোয়ার হোসেনের বই “যৌন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান” থেকে।

রাস্তার হকাররা বলে ১০০ ফোঁটা রক্ত দিয়ে ১ ফোটা বীর্য তৈরী হয়। সুতরাং মাস্টারবেশন করলে বা স্বপ্নদোষ হলে অনেকে ভাবে আজ শরীরের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল! আসলে কিছুই হয়না। এটা একটা প্রাকৃতিক ব্যাপার। রেপ, সমকামিতার চেয়ে হস্তমৈথুন করা অনেকগুন ভাল।  শরীরের প্রয়োজনে আপনার পুরুষাঙ্গ সাড়া দেবেই এবং বিয়ে না করলে ওকে তো ঠান্ডা করতে হবে। সেটা আপনি মাস্টারবেট (হাত দিয়ে) করুন আর স্বপ্ন দেখেই ফেলুন, আপনার কোন ক্ষতি হবে না। এতে লাভ বলতে আপনার টেনশন কমবে, মেয়েদের পিছনে ষাড়ের মত ঘোরা কমবে।

 

হস্তমৈথুন করলে আগা মোটা ও গোড়া চিকন হয়? না। এগুলো সবই হকারদের কথা। আমাদের পুরুষাঙ্গ এক একবার একের রকম দেখতে মনে হয়। দেখবেন গ্রীষ্মে বড় আর শীতে ছোট মনে হবে। আর অন্ডকোষ একটা অন্যটার চেয়ে একটু নীচে অবস্থান করবে। এগুলো সব স্বাভাবিক। টেম্পারেচর বাড়লে একরকম, কমলে আরেক রকম। এটা যন্ত্রপাতি ভাল রাখার জন্য শরীরের নিজস্ব সিস্টেম। এগুলো নিয়ে চিন্তার কিছু নাই। তাছাড়া পুরুষাঙ্গের সাইজ নিয়েও চিন্তিত অনেকে। সাধারনত: মেয়েদের তৃপ্তি দিতে ৩/৪ ইঞ্চি হলেই চলে। ওদের আনন্দ দিতে এর বেশি প্রয়োজন হয় না। বেশি হলে বেটার। সুতরাং সাইজ ডাজন্ট ম্যাটার।

তবে মনে রাখতে হবে, অতিরিক্ত সব কিছু খারাপ। যেমন দিনে ৮/৯ গ্লাস পানি খাওয়া উত্তম, কিন্তু ১৫ গ্লাস পানি? সেরকম আপনি যদি অতিরিক্ত হস্তমৈথুন করেন তাহলে সেটা আপনার প্রয়োজন না-অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সেটা ত্যাগ করুন। ভাল বই পড়ুন, নামায পড়ুন, খারাপ চিন্তা গুলোকে দুরে রাখুন।

যৌনজীবন রিসেট?

জী, যেমন কম্পিউটার হ্যাং করলে আমরা রিস্টার্ট/রিসেট করি। আপনার যৌনজীবনও রিসেট করা সম্ভব। আপনার যদি গণোরিয়া, সিফিলিস জাতীয় রোগ হয় তাহলে ডাক্তার দেখিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই ঠিক হয়ে যাবে। এখানে যেসব আলোচনা করবো সেটা হচ্ছে পুরষাঙ্গ প্রয়োজনের সময় না দাঁড়ানো এবং দ্রুত বীর্যপাত।

প্রথমে চলুন “ওকে” দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করা যাক,

পেনিস বা পুরষাঙ্গে অনেক গুলো খালি পকেট থাকে। আপনি যখন উত্তেজিত হন, পকেট গুলো রক্ত এসে পূরণ করে দেয়। বীর্যপাত হলে রক্ত গুলো ফিরে যায়-পকেট শুন্য হয় এবং “তিনি” আবার শান্ত রূপে ফিরে আসেন। এই হচ্ছে ঘটনা। কি কি কারণে পুরুষাঙ্গ শক্ত হয়না?

  • প্রথমত: আত্ম বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ  নিয়ে ভ্যালেন্টি ৫ মি:গ্রা: এক ঘন্টা আগে খাবেন।
    Valenty Tablet Vardenafil 10 mg

    ডোজ ১০ মি:গ্রা: থেকে শুরু। আপনি ওটাকে অর্ধেক করে খান। এগুলো ভায়াগ্রার মতই। আপনি যখনই শুরু করতে যাবেন তখন এর কাজ শুরু হবে। একঘন্টা আগে খাবেন। সতর্কতা হচ্ছে যারা হার্টের রোগী এবং নাইট্রোগ্লিসারিণ জাতীয় ওষুধ সেবন করেন-তারা কখনই ভায়াগ্রা জাতীয় ওষুধ খাবেননা। যাদের প্রেশার কম থাকে, তারাও সাবধান। বেশি উপকারের আশায় বেশি খাবেন না। ২৪ ঘন্টায় একবারই খেতে হয়। ওটা খেলে দাঁড়াবেই, যদি কোন যৌন কাজে অগ্রসর হন। নইলে কিন্তু শান্ত থাকবে।  নিয়মিত খাবেন না। এগুলো ওয়ান টাইম ট্যাবলেট। আপনার দাঁড়াচ্ছে সুতরাং আত্মবিশ্বাস বেড়েছে -সব ঠিক আছে। এবার আস্তে আস্তে নিচের কাজ গুলো ফলো করুন। ভায়াগ্রা আর খেতে হবে না।

  • মানসিক সমস্যা– প্রথম এবং প্রধান সমস্যা। কোন কারণে ভয় পেলে, টেনশনে থাকলে কিছুতেই কথা শুনবেনা। বড় হবে কি উল্টো ছোট হয়ে যাবে। ভয়ের কারণ খুঁজে বের করুন, সেটা দুর করতে পারলেই সব ঠিক। খুব ক্লান্ত থাকলেও পুরুষাঙ্গ সাড়া দেবেনা।
  • ওষুধ– কোন কোন ওষুধে যৌন ইচ্ছা কমে যায়। যেমন- মটিগাট (ডমপিরিডন), রিল্যাক্সের ওষুধ। এগুলো বাদ দিয়ে ভাল থাকা যায় কিনা দেখুন। আর ইয়াবা, ফেন্সিডিল খেলে তো সব কিছুর বারোটা বাজবে। আশার কথা, নেশা থেকে দুরে থাকুন। আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।
  • পর্ণগ্রাফি– আপনি যদি মিষ্টির দোকানে কাজ করেন তখন কি আর চমচম দেখলে জীভে পানি আসবে? যারা পর্ণে আসক্ত তাদের পুরষাঙ্গ সহজে সাড়া দেয়না। কারণ মস্তিষ্ক সানি লিওনদের  দেখে অভ্যস্ত হয়ে যায়,  দেশৗ মেয়ে দেখলে উত্তোজিত হবে-এমনটা আশা করেন কিভাবে? এমন কি পর্ণও তাদের কাছে সাধারণ সিনেমার মত মনে হয়। পর্ণ ছাড়ুন, রিসেট করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। প্রচুর পানি খান
  • জিংক থাকে এমন খাবার, ডালিম, তরমুজ আপনার নিচের যন্ত্র ঠিক রাখে।
  • শারিরীক সমস্যা-জন্ম থেকে সমস্যা হলে পেনিসের ভেতরে একটা রাবার জাতীয় রড ইমপ্ল্যান্ট করতে হয়-অপারেশন করে। বিভিন্ন জটিল রোগ থেকেও সমস্যা হতে পারে। হরমন লেভেলও কম হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • এইডস ও অন্যান্য যৌনরোগ থেকে বাঁচতে কন্ডোম ব্যবহার করুন।

দ্রুত বীর্যপাত রোধ:

  • ওভার এক্সাইটেড হবেন না।
  • কেগেল এক্সারসাইজ করুন। এটা পুরুষাঙ্গ শক্ত করতেও সাহায্য করে।
  • চোক পদ্ধতি অ্যাপ্লাই করুন।

কেগেল এক্সারসাইজ:

প্রস্রাব করতে করতে মাঝপথে থেমে যেতে পারেন? নিশ্চয় পারেন। এ জন্য যা করলেন তা হচ্ছে ঐসব পেশি যা আপনার বীর্যপাত কন্ট্রোল করতে সাহায্য করে। এখন জেনেছেন কোন গুলো কাজ করে। অফিসে বসে, বাসে বসে, টিভি দেখতে দেখতে কিগেল এক্সারসাইজ করা যায়। বাথরুম সেরে এসে বসে বসে রোজ ১২/১৪ বার করুন। চেষ্টা করুন কতক্ষণ সংকোচন করতে পারছেন? এটা একটা চমৎকার ব্যায়াম ।

আরেকটি  পুরুষাঙ্গের ব্যায়াম হচ্ছে, পুরুষাঙ্গ শক্ত অবস্থায়  দড়িতে যেভাবে তোয়ালে মেলে দেন ঠিক ঐ ভাবে তোয়ালে ঝুলিয়ে দিন। এখন পুরুষাঙ্গ দিয়ে ওটাকে লিফট করুন। ওয়ান কাইন্ড অফ ওয়েট লিফটিং।

চোক পদ্ধতি

যৌনমিলনের সময় বীর্যপাতের সময় ঘনিয়ে আসলে ওটা বের করে আগার দিকে হাত দিয়ে মুঠো করে ধরে কয়েক বার চাপ দিন। দেখবেন বীর্যপাতের সময় বেড়ে যাবে।

পুরুষদের প্রয়োজনে অনেক কথায় বলতে হলো। কিছু মনে করবেন না। দয়া করে আমার লেখা গুলো কপি না করে শেয়ার করুন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares
Don`t copy text!