আউট ডোর
এয়ারগান সমাচার

এয়ারগান সমাচার

এয়ারগান

মানুষ এয়ারগান কেন কেনে? বাংলাদেশের আইনে পাখি শিকার নিষিদ্ধ। এই সংক্রান্ত আইন এখানে (http://bdlaws.minlaw.gov.bd/bangla_sections_detail.php?id=1102&sections_id=42173)। বাংলাদেশে পাখির ক্ষতি হয় –

  • জাল দিয়ে পাখি ধরলে-
  • বিষ দিয়ে পাখি মারলে
  • জমিতে কারেন্ট জাল ব্যবহার করলে
  • জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করলে

কি বিপুল পরিমাণ পাখি যে এভাবে মারা পড়ে তার হিসাব কে রাখে? এ’ব্যাপারে পরিবেশবাদীরা কি ওয়াকিবহাল? জানিনা। যাহোক, প্রশ্ন আসতে পারেন তাহলে এয়ারগান কিনে কি লাভ? পাখি মারা ছাড়াও সময় কাটানোর জন্য এটা একটা চমৎকার মাধ্যম। তাছাড়া ইঁদুর, সাপ মারতে পারবেন। এমনকি বাড়ীতে চোর ডাকাতের হামলা হলেও কিছুটা তো প্রতিরোধ করা যায়। বন্দুক তো সেলিব্রেটিরা ছাড়া লাইসেন্স পান না। আমরা তো সাধারন মানুষ। আমাদের দৌড় এয়ারগানেই সীমাবদ্ধ। তারপরেও পুলিশ দেখলে নানা জেরা করবে। এটা ওঁদের চাকুরী। বন্দুকের মত দেখতে বস্তু দেখলে জেরা না করাটাই অস্বাভাবিক। তবে এয়ারগানের জন্য কেউ যদি অ্যারেস্ট করে- সেটা আইন সম্মত নয়। এয়ারগান সংক্রান্ত আইনটি হচ্ছে-

তাহলে আইনটি হচ্ছে আমদানি, বিক্রয় ও বহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে কিন্তু আমদানি ছাড়া অন্য কোন নিষেধাজ্ঞাই জারি হয় নি (শিকার ব্যতিত)। এছাড়া দেখুন বনাঞ্চল সন্নিহিত এলাকায় আপনি নিজ নিরাপত্তা, দৈনন্দিন প্রয়োজনে রাখতে পারবেন। এই আইন জানার পর নিশ্চয় আপনি নিরাপদ বোধ করছেন।

মানুষ কিন্তু সেই আদিম যুগ থেকেই শিকারী। তাই যখন কেউ এয়ারগান হাতে পায়, তার হাত নিশপিশ করতে থাকে শিকার করার জন্যে। এটা মানুষের জিনে’র (Gene) মধ্যে ঢুকে আছে। শিকার সম্পর্কে ইসলাম কি বলে? শিকার হালাল। তবে সেটা শুধু খাওয়ার জন্যে মারলে। অবশ্য মারার আগে “বিসমিল্লাহ আল্লাহু আকবর” বলে গুলি ছুঁড়তে হবে এবং পরে জবাই করে নিতে হবে। শুধু খেলাচ্ছলে শিকার বা প্রাণী হত্যা নিষিদ্ধ। তবে আমি কিন্তু শিকারকে উৎসাহিত করছিনা। এটা একটা মানবিকতার ব্যাপার। পাখির কোন সময় বাচ্চা থাকে সেটা বুঝে অন্যান্য দেশে শিকার এর সময় নির্ধারণ করা হয়। আমাদের দেশে সাধারনত: এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পযন্ত ডিম ও বাচ্চা দেওয়া চলতে থাকে। একটা মা পাখির আশায় বাচ্চারা বসে আছে; আর আপনি সে পাখি মেরে ফেললেন- ধারণা করতে পারেন সেটা কত কঠিন ব্যাপার। সে হিসেবে এয়ারগান শুটিং গম ক্ষেতের ইঁদুর আর বাড়ীর বাইরে বিভিন্ন খালি বোতলে গুলি মারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। আবারও বলছি, বাংলাদেশে পাখি শিকার নিষিদ্ধ।

দামী এয়ারগান কিনলেন এবং ভাল শুটার হয়ে গেলেন ব্যাপার কিন্তু তা নয়। তবে নতুন এয়ারগান কিনলে আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে। সেকেন্ডহ্যান্ড গুলো না বুঝে কিনলে খুব জ্বালাতন করে। আমার এই ব্লগে অনেক কিছু শিখবেন-তারমধ্যে এয়ারগান শুটিং অন্যতম। সেকেন্ড হ্যান্ড এয়ার গান কিনতে হলে আমার পরামর্শ মত কিনলে আশা করি ঠকবেন না। দিনের দিন এক্সপার্ট দের সাথে ঘুরে এবং প্রচুর ব্লগ পড়ে, নিজে হাজার হাজার গুলি ছুঁড়ে আমার যা অভিজ্ঞতা  হয়েছে তা শেয়ার করবো- যাতে আপনাদেরও আমার মত সমস্যা না হয়। এয়ারগান সংক্রান্ত আমার একটা ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেটাও সাবস্ক্রাইব করতে পারেন।

এয়ারগান আমদানি নিষিদ্ধ হওয়ায় আমাদের এয়ারগানের দাম অত্যধিক। ৪০০০০/- টাকার ডায়ানা ম্যাগনাম ৩৫০ এর দাম ১,৬০,০০০-২,৩০,০০০/। কোন মানে হয়? এমনিতেও তো আসছে। শুধু শুধু বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে। যদিও গানশপ মালিকদেরও অনেক খরচ হয়। তবে আমি বুঝি যেটা সেটা হচ্ছে, দাম কমালে সেল বেশি হবেই।

এয়ারগান এর প্রকারভেদ:

স্প্রিংগারের যুগ পেরিয়ে আমরা এখন প্রি চার্জড নিউম্যাটিক এ (পিসিপি)। তবে স্প্রিংগারের দাম কম তাই এর জনপ্রিয়তা কমেনি বরং অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষগুলোর আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। সবাই কি আর ৩ লাখ টাকা দিয়ে পিসিপি কিনতে পারবে? পিসিপি এয়ারগান গুলোর মধ্যে FX Airgun গুলো বেশ জনপ্রিয়। Airforce Texan, Seneca Dragon Claw এইগুলো প্রচন্ড শক্তিশালী। এসব দিয়ে হামেশায় হরিন, ভালুক শিকার করছে অন্যান্য দেশে। এগুলোর পিলেট্ ক্যালিবার ও মাজল এনার্জি ৬০০ এফপিই পর্যন্ত হয়ে থাকে। অন্যদিকে ডায়না ৩৫০ ম্যাগনামের এফপিই ২৩! তাহলেই বুঝুন কি শক্তির আধার।

প্রশ্ন হচ্ছে এফপিএস আর এফপিই কি? FPS = Feet Per Second, FPE = Feet Per Energy. পিলেটের গতি মাপা হয় FPS. এয়ারগানের শক্তি মাপা হয় FPE. যে গানের FPE যত বেশি, সেটা তত শক্তিশালী এয়ারগান। আমাদের দেশের বহুল ব্যবহৃত ডায়ানা ৩৫ এর FPE ১২/১৩. এখানে একটা ক্যালকুলেটর আছে। মেপে দেখতে পারেন।

মজার ব্যাপার হলো একই এয়ারগানে পিলেটের ওজন বাড়ার সাথে সাথে তার FPE বাড়ে। ১৮ গ্রেনের পিলেট যদি ৮০০ FPS এ যায় তাহলে তার FPE হবে 25.59 foot-pounds, আবার ১৪ গ্রেনের পিলেট যদি ৮০০ FPS এ যায় তাহলে তার FPE হবে 19.9 foot-pounds foot-pounds. তারমানে হচ্ছে শুধু ভারী পিলেট ব্যবহারের ফলে FPE বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার FPS কমে যাবে। কারণ যে গান ১৪ গ্রেনের পিলেট ৮০০ FPS এ পাঠাতে পারবে, সেই গান ১৮ গ্রেনের ক্ষেত্রে ঐ ভেলোসিটি তুলতে পারবেনা। তখন ১২ FPE এর গান ১৮ গ্রেনের পিলেট পাঠাবে 547.87 fps এ। সুতরাং ভারী গুলিকে হাই ভেলোসিটিতে পাঠাতে আপনার শক্তিশালী এয়ারগান লাগবেই।

আমাদের বাংলাদেশে আরেকটা ব্যাপার দেখি যে, এয়ারগান দেখলেই কত FPS জানতে চাই। আগে যেমন স্মার্টফোন দেখলেই বলতো কত মেগা পিক্সেল ক্যামেরা। আসলে বেশি FPS মানেই খুব ভাল এয়ারগান, ব্যাপারটা তা নয়। অলিম্পিকে যেসব এয়ার গান ব্যবহার করা হয় সেগুলো ৫০০-৬০০ FPS কিন্তু অ্যাকুরেসী অত্যন্ত ভাল। সাধারনত: ৮০০-৯০০ FPS আসলে যথেষ্ঠ। Gamo Silent Cat 1250 FPS কিন্তু এর অ্যাকুরেসী ভারী গুলি ছাড়া পাওয়া যায় না। কারণ কোন কিছু যদি শব্দের চেয়ে বেশি জোরে ছোটে (শব্দের বেগ 1,125 fps) তখন তার ব্যালান্স নষ্ট হবেই। যার জন্যে সুপার সনিক প্লেনগুলো (কনকর্ড) শেষ পর্যন্ত আর টেকেনি।

এয়ারগানের যত্ন:

যাদের আছে বা যারা ভবিষ্যতে কিনবেন আমার এই আর্টিকেল পড়ে :-), তাদের কিছু টিপস দিই।

১. এয়ারগান লোডেড/আনলোডেড কারো দিকে কখনই তাক করবেন না।

২. এয়ারগান pellet ছাড়া ফায়ার করবেন না। ড্রাই ফায়ার আয়ু কমিয়ে দেবে অথবা পিস্টন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৩. সিন্থেটিক ওয়াশার হলে কম্প্রেশান চেম্বারে তেল দেবেন না। এতে অ্যাকুরেসি ঠিক থাকে না। জি, আমি গান ওয়েলের কথা বলছি। নিজে এবং বন্ধুরা RWS Chamber Oil ব্যবহার করে দেখেছি। লাভ নাই।

৪. ইউ টিউবের সব ভিডিও বিশ্বাস করে এক্সপেরিমেন্ট করতে যাবেন না। আপনার টাকা বেশি থাকলে আলাদা কথা।

৫. এয়ার গান হাত থেকে ফেলবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

৬. এয়ারগানের গায়ে হালকা নারিকেল তেলের প্রলেপ দিতে পারেন মরিচা রোধ করার জন্য। ব্যালিস্টল হলে তো খুব ভাল।

7. ভাল অ্যাকুরেসী পেতে ভাল মানের পিলেট ব্যবহার করতে হবে। যেমন, JSB, H&N, RWS, Crossman, Gamo ইত্যাদি। আমার মতে জেএসবি সবচেয়ে ভাল পিলেট বানায়।

আজ এ পর্যন্তই। কমেন্টে জানাবেন আপনার মতামত।

19 thoughts on “এয়ারগান সমাচার

Leave a Reply

Your email address will not be published.

shares
Don`t copy text!